বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় পড়া শুরু করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে জেলা শিশু আদালতে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় কড়া প্রহরার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা ৬ আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয়। কারাগার থেকে আদালতে আসামিদের আনার সময় প্রিজনভ্যানটি মাঝে রেখে দুইপাশে ছিল র‌্যাব ও পুলিশের গাড়ি।

এর আগে বিভিন্ন সময় স্বজনদের সঙ্গে আদালতে হাজির হয় এ মামলায় জামিনে থাকা ৮ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি।

মামলার রায় শুনতে আদালতে রিফাতের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মামলার আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও আসামিদের স্বজনরা হাজির হয়েছেন। আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ হত্যাকাণ্ডে প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের রায়ে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। এ ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন মিন্নি।

এদিকে, গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

৭৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ৬৩ কার্যদিবসে এর বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর বরগুনা শিশু আদালত রায়ের দিন ধার্য করে।

সরকার পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানিয়েছেন, মামলার ১৪ আসামির মধ্যে সাত আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তারা সাক্ষীর মাধ্যমে অভিযোগ ‘প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী নারগিস পারভীন সুরমা জানিয়েছেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামিরা নির্দোষ। তারা বেকসুর খালাশ পাবেন বলে আশা করছেন তিনি। রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের মধ্যে আটজন জামিনে এবং ছয়জন কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রয়েছেন।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় দিনের বেলায় কয়েক যুবক রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রিফাত শরীফের সাথে তখন তার স্ত্রী মিন্নি ছিলেন। পরে তাকেও আসামি করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের পয়লা সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির ২৪ জনকে আসামিকে প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত করে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে দুটি পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তাতে ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here