ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি রক্ষায় সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে


চট্টগ্রাম থেকেই মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিপ্লবী বিনোদ বিহারীসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিকরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের বাড়িতে নেতাজি সুভাষ বসু, মাওলানা শওকত আলীসহ বিপ্লবীদের যাতায়াত ছিল। দুঃখের বিষয়, সেই ঐতিহাসিক এবং স্মৃতিবিজড়িত আড়াইশ বছরের পুরনো স্থাপনা ভাঙার অপচেষ্টা চলছে, যা খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের নেতৃত্বে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বাড়িটি ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পায়। যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি রক্ষায় সরকারের কাছে বিশিষ্টজনরা জোর দাবি জানিয়েছেন। আমরাও চাই ঐতিহাসিক বাড়িটির স্মৃতি রক্ষায় সরকার উদ্যোগী হবেন। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে আঠারো শতকের খ্যাতিমান বাঙালি আইনজীবী যাত্রামোহন সেনের গড়ে তোলা বাড়িটির একাংশ গত সোমবার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় আকস্মিকভাবে নিজেদের মালিক দাবিদার একটি পক্ষ। খবর পেয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত স্থানীয়দের নিয়ে ভবনটির সামনে অবস্থান নেন। প্রতিরোধের মুখে তখন ভবন ভাঙা বন্ধ রাখা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা, বাদ-প্রতিবাদের পর জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে বাড়িটি সিলগালা করে দেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বেদখল হয়ে আছে। এর জমির পরিমাণ ১৯ গণ্ডা এক কড়া। অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত বাড়িসহ জমিটি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে শামসুদ্দিন মো. ইছহাক নামে এক ব্যক্তি ‘বাংলা কলেজ’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সর্বশেষ সেখানে ‘শিশুবাগ’ নামে একটি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় এমন দখলবাজি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত। যতীন্দ্র মোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষায় গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় একটি সংগঠন। সংগঠনটি বাড়ি রক্ষায় তিন দফা দাবি জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে। যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়িটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত ভবন। এটির সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের ও নাগরিকদের কর্তব্য। এ ধরনের যেসব ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। এ নিয়ে আইনও আছে। পাবনায় সুচিত্রা সেনের ভিটেমাটি যেভাবে সরকার অধিগ্রহণ করে সেটাকে স্মৃতি সংগ্রহশালা করেছে, একই আদলে এই ভবনটিও রক্ষা করা হোক। অবিলম্বে দখলবাজ দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি রক্ষায় সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

ডিসি





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here